Friday, 20 December 2019

শাল পাতার গুণমান এবং তার রং

শাল পাতার গুণমান এবং তার রং

পশ্চিমবঙ্গতে তে শাল পাতার ব্যবসা হতেপারে কেবল কিছু মাত্র কিছু জায়গাতে - বাঁকুড়া, বিষ্ণুপু এবং ঝাড়গ্রাম এ । এই ব্যাবসার মূল উপকরণ হলো শাল পাতা । যেটা শাল এর জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে আনতে হয় । সেই শাল গাছের জঙ্গল থাকে এই তিনটি জায়গা তে । যে কারণে শাল পাতার ব্যবসা কেবল মাত্র বাঁকুড়া, বিষ্ণুপু এবং ঝাড়গ্রাম এর মধ্যে সীমা বদ্ধ ।




আমি গত চার মাস ধরে এই একই কাজে বিভিন্ন জায়গা তে ঘুরে বাড়িয়েছি আর এই ব্যবসা সংক্রান্ত অনেক তথ্য সংগ্রহ করছি - যা এই ব্যবসাতে কাজে লাগানো যেতে পারে । তবে আমার দাওয়া সব তথ্য যে ঠিক তার কোনো যুক্তিকথা নেই - কারণ আমার আগেও অনেক কোম্পানি এবং অনেক সরকারি দপ্তর এই কাজ করে গেছে । আমি যে Organization এর হয়ে কাজ করছি তার নির্দেশ মতোই আমি প্রয়োজেনিয়ো তথ্য খুঁজে বার করছি । আমার মনে হয়েছে শাল গাছের পাতার বৈশিষ্ট (Leaf Quality ) সব জায়গা তে সমান নয় । তার কারণ আমি বেশ কিছু শাল পাতার থালার ব্যবসাদার এর সাথে কথা বলে জানতে পারি - " পাহাড়ি পাতা "- বলে একধরনের পাতার বৈশিষ্ট আছে যার দাম বেশি । শুধু তাই নয় সেই পাতা আবার অন্যান্য জায়গার পাতার থেকে পাতলা এবং বেশ শক্ত (Strength Quality )।

পাহাড়ি পাতা পাওয়া যায় বেলপাহাড়ি অঞ্চলে । সেই পাতা পাতলা এবং সেই পাতা কাঠি লাগিয়ে শুকোনোর পর যখন থালা বানানো হয় তার রং ঘন সবুজ (Dark Green ) থাকে । যে থালা বা বাটি দেখতে ভীষণ সুন্দর হয় । এই বেলপাহাড়ি অঞ্চলের সব পাতা ওড়িশা তে চলে যায় । তার কারণ অবশ্য আগের পোস্ট এ আছে ।
শাল পাতার ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা যা বেশিদিন মজুত করে করা সম্ভব নয় । যে কারণে এই ব্যবসা করতে গেলে একটা ভালো দল বা গোষ্ঠীর দরকার হয়ে থাকে ।

কিছুদিন আগে এক অদ্ভুত এবং অভিনব এত তথ্য আমার সামনে এলো । আমি বাকুড়াতে এক দোকানে খাবার খাবার সময় জানতে পারি বেলপাহাড়ির পাতা উল্টো দিকে কাঠি লাগিয়ে বানানো হয়ে থাকে । তার কারণ সেইখানকার পাতার উল্টোদিকটা বেশ চক- চকে । দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু জায়গা এই ধরনের পাতায় খাবার খাতে ভালো বসেন ।

আমার দেখা সবথেকে বেশি পাতা সংগ্রহ হয়ে থাকে ঝাড়গ্রাম । যেখানে গ্রামের মহিলারা জঙ্গল থাকে পাতা সংগ্রহ করে কাঠি লাগিয়ে শুকিয়ে মজুতকারীদের দিয়ে থাকে । কিন্তু তা সত্বেও সেখানে যখন আমি সেই গ্রামের মহিলাদের সাথে কথা বলি - জানতে পারি তারাও এই ব্যবসা করতে ইচ্ছুক নয় । তার কারণ সারাবছর মজুতকারীরা তাদের কাছ থাকে পাতা সংগ্রহ করে না । এই ঘটনার আর একটা কারণ হলো পাতার ধরণ ঝাড়গ্রামের পাতা অন্য জায়গার পাতার থাকে অনেক মোটা । যে পাতা থালা বাবানোর পর সঠিক থালার আকৃতিতে আসতে বেশ সময় লাগে । আরেকটি কারণ হলো এই পাতা বেশি শুকিয়ে গেলে ভেঙে যাবার সম্ভবনা থাকে ।

সুতরাং শাল পাতার গুণমান অনুযায়ী বাঁকুড়া থাকে বেলপাহাড়ি পর্যন্ত যে পাতা পাওয়া যায় তাতাই সবথেকে বেশি ভালো গুণমানের থালা বানানো হয়ে থাকে । এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কে ঝাড়গ্রামের শাল পাতার কোনো কাজ হয় না ? - হ্যা হয় । ঝাড়গ্রামের পাতার দাম অপেখ্খিত অন্য জায়গার থাকে কিছু কম হয়ে থাকে । পাঁচ খানা পাতা কাঠি লাগিয়ে একটা গোল থালার আকার হয় । এই রকম দুটো কাঠি লাগা পাতা একসাথে করে সেলাই করা হয় - সেই দুটো কাঠি লাগা পাতার একটা "পাহাড়ি পাতা " থাকে আর একটা ঝাড়গ্রামের পাতা থাকে । তাতে বানানো থালার দাম কিছু টা হলেও কম হয় । থালা বানানোর সময় পাহাড়ি পাতা উপর দিকে রাখা হয় । সেই কারণে থালা দেখতেও ভালো হয়ে থাকে ।

প্রধানত ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে শাল পাতার রং বা তার বৈশিষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে । কিন্তু আমাদের দৈনিন্দিন জীবনে শাল পাতার রং বা তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট  তেমন প্রবাভ ফেলে না । আমাদের জীবনে এই শাল পাতার থালার খাবার গুরুত্ত অপরিসীম । থার্মোকল বা প্লাস্টিক প্রলেপ (PP  Laminated ) ছাপা (Printed ) কাগজের থালার থাকে অনেক অনেক গুনে ভালো এবং স্বাস্থকরও বটে ।





0 comments:

Post a Comment